ঢাকা , বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঝুঁকিতে পদ্মা পাড়ের কবরস্থান-বাজার-স্কুলসহ কৃষিজমি

জিওব্যাগেও থামছে না ভাঙন

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ১৬-০৯-২০২৬ ০২:০৫:২০ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ১৬-০৯-২০২৬ ০২:১০:০৪ অপরাহ্ন
জিওব্যাগেও থামছে না ভাঙন ছবি : সংগৃহীত
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে জিওব্যাগ ফেলেও থামানো যাচ্ছে না পদ্মা নদীর ভাঙন। তীব্র স্রোতে নতুন করে ভাঙন দেখা দেওয়ায় কবরস্থান, বাজার, স্কুল, উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রসহ পাঁচ শতাধিক পরিবার ও শত শত হেক্টর তিন ফসলি কৃষিজমি ঝুঁকিতে পড়েছে। ভাঙনকবলিত এলাকার বাসিন্দারা নদীশাসনের মাধ্যমে টেকসই ও স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।

পদ্মায় পানি বৃদ্ধির সঙ্গে তীব্র স্রোতে ভাঙনের তীব্রতাও বেড়েছে। এতে গোয়ালন্দ উপজেলার দেবগ্রাম ইউনিয়নের মুন্সিবাজার এলাকায় নতুন করে ভয়াবহ ভাঙন শুরু হয়েছে। ফলে চরম বিপাকে পড়েছেন পদ্মাপারের পাঁচ শতাধিক বাসিন্দা। গত দুই থেকে তিন দিনের ভাঙনে নদীপাড়ের প্রায় ৫০ থেকে ৬০ মিটার এলাকা বিলীন হয়ে গেছে।

ভাঙনের মুখে পড়েছে একটি কবরস্থান, শত শত হেক্টর তিন ফসলি কৃষিজমি ও বসতবাড়ি। দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে পার্শ্ববর্তী মুন্সিবাজার, মসজিদ, একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রসহ শতাধিক পরিবার ভাঙনের কবলে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

ভাঙন প্রতিরোধে রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) গত দুই বছরে সেখানে ঠিকাদারের মাধ্যমে অন্তত ২৪ হাজার জিওব্যাগ ফেলেছে। কিন্তু সেগুলো কোনো কাজেই আসছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। ভাঙনে জিওব্যাগসহ নদীতে ধসে গেছে। চলতি বছরও ইতোমধ্যে ওই এলাকায় ৬ হাজার জিওব্যাগ ফেলা হয়েছে। বালুভর্তি জিওব্যাগ নদীতে ফেলার কাজও অব্যাহত রয়েছে।

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অপরিকল্পিত ও দায়সারাভাবে নিম্নমানের বালু দিয়ে জিওব্যাগ ভর্তি করে নদীতে ফেলছে। এ কারণে জিওব্যাগগুলো এখন নদীতে ধসে যাচ্ছে। নতুন করে নদীগর্ভে বিলীন হতে যাচ্ছে তিন ফসলি জমি ও রাস্তা।

দৌলতদিয়া ও দেবগ্রাম এলাকার নদীশাসন আন্দোলনের সদস্যসচিব মো. জামাল মুন্সি বলেন, অপরিকল্পিতভাবে জিওব্যাগ ফেলায় তা কোনো কাজেই আসছে না। ফলে বস্তাগুলো এখন নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। প্রশাসনের কাছে আমরা দাবি করে আসছি, শুষ্ক মৌসুমে নদীর তলদেশ থেকে জিওব্যাগ ফেলে নদীভাঙন প্রতিরোধের কাজ করা হোক।

তিনি বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড আমাদের কথায় কর্ণপাত করেনি। তারা ভরা বর্ষায় নদীভাঙন শুরু হলে জরুরি ভিত্তিতে নদীর তীর ঘেঁষে উপরিভাগে জিওব্যাগ ফেলে। এতে তেমন কোনো কাজ হয় না। আমরা দ্রুত টেকসই ও মজবুত নদীশাসনের দাবি করছি।

সরেজমিন দেখা গেছে, নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় তীব্র স্রোত ও ঢেউয়ের কারণে নতুন করে ভাঙন দেখা দিয়েছে। যেসব স্থানে জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধের চেষ্টা করা হয়েছিল, সেসব জিওব্যাগ নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে।

এ সময় লোকমান সরদার, মোজাম্মেল শেখ, শহিদুল ইসলাম, নাজমুল শেখ, মজিদ সরদার ও আমেনা খাতুনসহ কয়েকজন অভিযোগ করে বলেন, নদীর নিচ থেকে বস্তা না ফেলায় স্রোতের টানে ওপরের বস্তাগুলো ধসে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে তাদের অনেকের ভিটেমাটি বিলীন হয়ে গেছে। অনেকে নিরাপদ স্থানে সরে যাচ্ছেন।

এ বিষয়ে রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. তাজমিনুল রহমান বলেন, দেবগ্রামে নদীভাঙনের স্থান তারা পরিদর্শন করেছেন। সেখানকার কবরস্থান ও বসতবাড়ি রক্ষায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, দ্রুতই জিওব্যাগ অথবা টিউবব্যাগ ফেলে ভাঙন প্রতিরোধের কাজ শুরু করা যাবে।

তিনি আরও বলেন, দৌলতদিয়া ঘাটে ৩০০ মিটার এলাকায় এক হাজার জিওব্যাগ ডাম্পিং করা হয়েছে। এতে সাময়িকভাবে হলেও দৌলতদিয়া ঘাটের ভাঙন কমেছে।

গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল হুদা বলেন, নদীভাঙনের বিষয়ে রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা হয়েছে। তারা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত সময়ের মধ্যে ভাঙনকবলিত এলাকায় কাজ শুরু করবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন।
 
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন 
 


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ